পেনশন স্কিমের মুনাফা বাড়ল, নমিনির বয়সসীমাও বৃদ্ধি
সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেনশনবঞ্চিত কর্মীদের সর্বজনীন পেনশনের 'প্রগতি' স্কিমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর নীতিগত অনুমোদন, তহবিলের মুনাফা বৃদ্ধি এবং নমিনির পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
সভার উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তসমূহ: যেসব রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন করপোরেশন, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সরাসরি সরকারি পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা পান না, তাঁদের সর্বজনীন পেনশনের 'প্রগতি' স্কিমের আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী কর্তৃক আজীবন পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে। ফলে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় ইসলামিক বা শরিয়াহ ভিত্তিক পদ্ধতি চালুর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে এবং এ জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
অন্যান্য প্রস্তাব ও পর্যালোচনার বিষয়সমূহ:
৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা চালুর একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও জনমিতিক বাস্তবতা পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পাঁচ বছর পর জমাকৃত অর্থ তুলে নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগসংবলিত 'এক্সিট প্ল্যান' এবং তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবগুলো বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
সর্বজনীন পেনশনের সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি তহবিলের আকার আরও বড় হলে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশগামী কর্মীদের পেনশন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বিদেশ যাওয়ার আগেই তাঁদের অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সহায়তা করবে। এছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এককালীন ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
Comments