'অর্থ আত্মসাৎ ও মদের শুল্ক ফাঁকি' চট্টগ্রাম ক্লাবের চেয়ারম্যানসহ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী 'চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড' এ নজিরবিহীন অনিয়ম, অডিট কেলেঙ্কারি ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের যৌথ হিসাব থেকে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং বারে সাড়ে চার কোটি টাকার অবৈধ মদ কেনাবেচার অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ বর্তমান কমিটির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মোরশেদ আরিফ চৌধুরী।
মামলার আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম ক্লাবের ২০২৫ সালের কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান শোভন এম শাহাবুদ্দিন রাজ, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দুল আনোয়ার ফারহাদ, জেনারেল কমিটির সদস্য (বার ইনচার্জ) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন এবং চিফ ফিন্যান্স অফিসার (সিএফও) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন চৌধুরী।
বাদীর আইনজীবী অলক কান্তি দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত মামলাটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পুরো ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দায়িত্ব ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের রেডিসন ব্লু শাখায় থাকা ক্লাবের যৌথ হিসাব থেকে ৩৪ লাখ ২ হাজার ৩৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্লাবের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার না করে আসামিরা নিজেরা আত্মসাৎ করেন।
এ ছাড়া ক্লাবের বার পরিচালনায় ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে অডিট রিপোর্টে। আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম ক্লাবের বারে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৯ টাকার মদ বিক্রি দেখানো হয়েছে। তবে এই পরিমাণ মদ সংগ্রহের পেছনে কোনো বৈধ লাইসেন্স, কাস্টমস শুল্ক পরিশোধের চালান বা সঠিক ক্রয়-বিক্রয়ের নথিপত্র দেখাতে পারেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা মদ বিক্রি করে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বাদীর।
আরজিতে আরও বলা হয়, ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধ না করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু বার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নিজের বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে গত ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বলেন, "চট্টগ্রাম ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এখানে স্বেচ্ছাচারিতা ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে শত বছরের এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও আমানত রক্ষার তাগিদেই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।"
আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ ( প্রতারণা), ৪০৮ (কর্মচারী কর্তৃক বিশ্বাসভঙ্গ), ৫০৬ (২) (হুমকি প্রদর্শন) ও ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশ) ধারায় এ মামলাটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অভিজাত এই ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আত্মসাতের মামলা দায়েরের ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরীর ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
Comments