চট্টগ্রামে ভ্যাটের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ ‘শপিং ব্যাগ’কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
পণ্য সরবরাহকারীর বিল থেকে ভ্যাটের টাকা কেটে নিলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার 'শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট' এর বিরুদ্ধে। ভ্যাট বাবদ কেটে রাখা ২৮ হাজার ৯৪৩ টাকার ট্রেজারি চালান হস্তান্তরের দাবিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে ভুক্তভোগী 'রেড লবস্টার' নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
নির্ধারিত সময়ে বৈধ ভ্যাট চালান না দিলে বা কর্তন করা অর্থ ফেরত না পাঠালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আদালতে মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শপিং ব্যাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত আইনি নোটিশ পাঠান রেড লবস্টারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তানভীর হায়দার।
নোটিশে যা বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৩ থেকে ২০ মার্চ মেয়াদে শপিং ব্যাগে রেড লবস্টারের বিক্রয়লব্ধ মোট নিট পাওনা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯১ টাকা। সেখান থেকে ভ্যাট বাবদ ৩ শতাংশ হারে ২৮ হাজার ৯৪৩ টাকা কেটে রেখে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪৮ টাকা পরিশোধ করে শপিং ব্যাগ কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট কাটলেও তা সরকারি কোষাগারে জমার মূসক চালানপত্র সরবরাহ করা হয়নি। গত পাঁচ মাস ধরে মৌখিকভাবে তা চাওয়া হলেও নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন সুপারমার্কেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। প্রচলিত আয়কর ও মূসক আইন অনুযায়ী, কোনো সরবরাহকারীর বিল থেকে ট্যাক্স বা ভ্যাট কর্তন করলে তার অফিশিয়াল চালানপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রমাণপত্র ছাড়া টাকা কেটে রাখা সরাসরি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেটের কার্যক্রম পরিচালক সাদিক দাবি করেন, 'টাকাটা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। আমার জানা মতে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে।'
তবে সাদিকের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন রেড লবস্টারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তানভীর হায়দার। তিনি জানান, নোটিশের পর টাকা ফেরতের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো অর্থ বা চালানের কপি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে তারা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
Comments