অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন উদ্যোগ, তথ্যদাতাকে পুরস্কারের ঘোষণা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির উদ্যোগে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই মধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির পৃথক অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান নিয়ে কিছু প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
যাদের কাছে লুণ্ঠিত বা অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য রয়েছে, তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোনো কোনো ব্যক্তি পরিস্থিতির কারণে বা তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিজেদের কাছে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তাদের সবার উদ্দেশ্য যে অপরাধমূলক, এমনটা নয়। অনেকেই অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার পর কী করবেন বুঝতে না পেরে কিংবা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে ভয় পেতে পারেন।
এ ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো স্থানে অস্ত্র রেখে তার অবস্থান সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে সদস্যরা গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো জায়গায় দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল, কয়েকটি ম্যাগাজিন বা গুলি রয়েছে—এমন তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব।
তথ্যদাতাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কৃত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে দেখা হবে।
এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এসআরবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় অপরাধ কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। অল্প সময়ের মধ্যে একটি এলাকার অপরাধ পরিস্থিতিতে পুরোপুরি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
তবে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এসআরবির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব এলাকায় সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযানে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও কিছু সময় ও সহযোগিতা করতে হবে। সমন্বিতভাবে কাজ করে খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Comments