প্রশ্নের মুখে পিআইবির ব্যয়, বিতর্কে ফারুক ওয়াসিফ
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ফারুক ওয়াসিফ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিবিরোধী লেখালেখির জন্য পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে তার কলামে ব্যক্তিগত দুর্নীতির সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা গেছে। কিন্তু পিআইবির সাম্প্রতিক কিছু ব্যয় ও কার্যক্রম ঘিরে ওঠা অভিযোগ তার সেই অবস্থানকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
পিআইবির নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি 'তারুণ্যের উৎসব ২০২৫' উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি সংগীতসন্ধ্যা, একটি প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনার। চারটি কর্মসূচির জন্য মোট প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
নথিতে উল্লেখ আছে—সেমিনার দুটিতে অংশগ্রহণকারী ২০০ জন করে মোট ৪০০ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচকদের সম্মানী, নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজ, যাতায়াত ভাতা এবং সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে।
তালিকায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সেমিনারে তারা অংশ নেননি। কেউ কেউ তাদের নামে দেওয়া স্বাক্ষরকেও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম আলোচক হিসেবে দেখানো হলেও তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময় পিআইবির কোনো সেমিনারে তারা উপস্থিত ছিলেন না।
অনুষ্ঠানগুলোর জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভাউচারও যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ধরনের কাজ তারা করেনি বা ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়।
খাবারের বিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময় এত বড় কোনো অর্ডারের তথ্য তাদের কাছে নেই।
পিআইবির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বিতর্কিত সেমিনার দুটির কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি। এছাড়া পিআইবির ভবনে একসঙ্গে ২০০ জনের সেমিনার আয়োজনের উপযুক্ত কক্ষ রয়েছে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পিআইবির এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশে কিছু নথি প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments