চক্রের ফাঁদে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে চসিক
চট্টগ্রামে কোরবানির বাজার শেষ হলেও এখনো বাজারের প্রায় ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি ইজারাদার। এর আগেও একই চক্রের কারণে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বাজার ইজারার পরপরই ৮০ শতাংশ ইজারার টাকা পরিশোধ করার নিয়ম থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না ফজলে আলিম চৌধুরী নামের এই ইজারাদার। যার কারণে বড় ধরনের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সিটি করপোরেশন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, আমরা সাগরিকা গরু বাজারের যে টাকা পায়নি সেটা নিয়ে একটি ফাইল এসেছে। কিভাবে এই টাকা আদায় করতে পারি, সেটার আইনগত দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে মেয়রকেও অবগত করা হয়েছে। তিনিও রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। এখন আইনীভাবে এই টাকা আদায়ের প্রক্রিয়ার দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে মিরা মেরিন প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফজলে আলিম চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর তিনি ইজারা নেওয়ার কথা স্বীকার করে কত টাকা সিটি করপোরেশনকে পরিশোধ করেছেন তা জানাতে পারেননি। পরে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় পশুর বাজার সাগরিকা বাজার। গত ঈদুল আজহার পশুর হাটকে কেন্দ্র করে এই বাজারটি ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মীরা মেরিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নেয়। মূল টাকার সাথে ২৫% ভ্যাট ট্যাক্স মিলিয়ে বাজারটি থেকে সিটি করপোরেশন ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করার কথা ছিল। তার মধ্যে বাজার শুরু হওয়ার আগে ৮০% টাকা সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাত্র সাড়ে চার কোটি টাকা দিয়ে দায় সেরেছে ইজারাদার। যা মূল ইজারার ৪০ শতাংশের মতো। ঈদুল আজহা শেষ হয়ে প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করেনি এই ইজারাদার।
এর আগেও গত পহেলা বৈশাখ থেকে বিশাল এই গরু বাজারের ইজারা হাট কালেকশনে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে ওই সময় হাট কালেকশনের নামে লাখ লাখ টাকা নয় ছয় করার সুযোগ তৈরি করে সিটি করপোরেশনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে সরকার দেড় কোটি টাকারও বেশি নিশ্চিত ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়।
গতবছর একাধিক টেন্ডারে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেই টেন্ডার সম্পন্ন না করে হাট কালেকশনের নামে প্রথম চার মাসের জন্য দেওয়া হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। পরে দুই মাসের জন্য দেওয়া হয় ২১ লাখ টাকায় এবং পরবর্তীতে আবার ৬ মাসের জন্য দেওয়া হয় ৯৯ লাখ টাকায়। টেন্ডারে সাড়ে সাত কোটিরও বেশি টাকায় বাজার ইজারা দেওয়া না হলেও হাট কালেকশনে পাওয়া যায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার কম। এরমধ্যে হাট কালেকশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ৫৫ লাখ টাকা আটকে রেখেছে। এবারও চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বানের পর ইজারা পায় মীরা মেরিন নামের প্রতিষ্ঠানটি। হাট কালেকশনে ৫৫ লাখ টাকা যেভাবে আটকে রেখেছিল এবারও ইজারার অবশিষ্ট ৬০% টাকা নিয়ে চক্রান্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments