আগামী সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
দেশে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক পাহাড় ধসে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এযাবৎ ৫৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা ও সিলেট বিভাগের দুই জেলায় বন্যার পানি কমছে। তবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপরে বইতে পারে। এতে উত্তরের পাঁচ জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
তা আরো উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল ও হিমালয়-পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতসহ সামগ্রিকভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় এসব অঞ্চল ও সংলগ্ন উজানে স্থানভেদে আগামী সাত দিনে সর্বোচ্চ সর্বমোট ২৫০-৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি কমেছে।
কুশিয়ারা নদী মারকুলি ও সিলেটে গতকাল বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। সুরমা নদী ছাতক ও কুশিয়ারা নদী শেরপুরে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে (১৯-২৩ জুলাই) উজানের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামের অনেক জায়গা ও রাজশাহী, ঢাকা এবং খুলনার কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ফের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
Comments