বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্কে নতুন দিগন্ত, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অভিবাসন ও প্রবাসী কল্যাণ, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথ (ডাইরেক্ট শিপিং লিংক) চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে সরকারের 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' পররাষ্ট্রনীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (People-to-People Contact) বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম বাংলাদেশকে মালদ্বীপের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে উভয় পক্ষই কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (স্টেট মিনিস্টার) ড. মোহাম্মদ ফাহমি হাসান এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সরকারি সফরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন। এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম মালদ্বীপ সফর, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Comments