বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাড়ে ৪ হাজার নেতাকর্মী দলে ফিরতে মরিয়া
চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। দলটির দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে বিভিন্ন পদের অন্তত ২ হাজার ৬ শতাধিক নেতাকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে এই বহিষ্কৃতদের একটি ক্ষুদ্র অংশকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচন ঘিরে দ্বিতীয় দফায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর বহিষ্কারের খড়গ নামে। সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হন অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা, যাদের অনেকেই কেন্দ্র ও তৃণমূলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে আসীন ছিলেন। তবে নির্বাচনের মাঠে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগেরই ভরাডুবি ঘটে; জয়ী হতে পেরেছেন মাত্র ৭ জন।
বিজয়ী ৭ জনের মধ্যে অন্যতম ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে বহিষ্কৃত হলেও এখন তিনি ঘরে ফিরতে মরিয়া। রুমিন ফারহানা বাদে জয়ী বাকি ৬ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মিলে বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে দুটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন—যার একটি নেতাকর্মীদের দলে ফেরানোর বিষয়ে।
নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে সালমান ওমর রুবেল বলেন: 'যেহেতু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি, তাই আমি অপরাধী। দলের চেয়ারম্যান যে শাস্তি দিয়েছেন, তা মাথা পেতে নিয়েছি। কিন্তু আমার রাজনীতির মূল ভিত্তি তো বিএনপি, সেটাকে অস্বীকার করতে পারব না। দলে ফেরার জন্য আমরা অনেক আগেই আবেদন করেছি এবং এখন ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।'
বহিষ্কারের আগে প্রায় ১৭ বছর ধরে এই নেতাদের অনেকের ওপরই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি ও সাংগঠনিক ভিত্তি নির্ভর করতো। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং অসংখ্য মামলা ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হওয়া এসব নেতাদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে দলে ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
তিনি বলেন, "এক-দুই যুগ ধরে যাদের ত্যাগ রয়েছে, তাদের ছোটখাটো ত্রুটিগুলো যদি সংশোধনযোগ্য মনে হয়, তবে নীতিনির্ধারকদের উচিত তাদের ফিরিয়ে আনা। ভবিষ্যতের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে হলেও তাদের আবারও দল করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।"
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে অন্তত ৬টি আসনে বিএনপির জোটসঙ্গী জ্যেষ্ঠ নেতারা পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া ভোট ভাগাভাগির সমীকরণে প্রায় ১০টি আসনে খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়েছে ধানের শীষের মূল প্রার্থীদের। ফলে বহিষ্কৃতদের ঢালাওভাবে দলে ফেরানোর বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন:
'দলে অনেক অবদান থাকার পরও বাধ্য হয়ে অনেক সময় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্ট নিয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি, আনন্দের সাথে নয়। বহিষ্কৃতদের বিষয়ে দল পরবর্তীতে কী সিদ্ধান্ত নেবে তা দেখার বিষয়, তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'
আপাতত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও দলছুট অনেক নেতাই বিএনপির বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, তাদের অনেককে অন্য দলে ভেড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও, আপাতত তারা সেই ফাঁদে না পা দিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর রাখছেন।
Comments