গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে: ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "যে গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ রায় দিয়েছে, সেই একই দিনের ভোটে আপনারা সরকার গঠন করেছেন। ওই গণভোটের রায় না মানলে এই সরকারকে মেনে নেওয়া হবে না।"
বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, "আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও আসল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, বড়জোর 'ডামি ফ্যাসিবাদ' হতে পারবেন। স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছে, আপনারাও সেই অর্ডিন্যান্সগুলো রেখে দিয়ে একই পথে হাঁটছেন। এটি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।"
সংসদে সংবিধান নিয়ে বক্তব্য দেওয়া এক শিক্ষককে (সাংসদ) ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সংবিধানে 'সংবিধান সংশোধন কমিটি' বলতে কোনো কমিটির অস্তিত্ব নেই। স্বৈরশাসন পাকাপোক্ত করতে তারা বিশেষ কমিটির মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সিদ্ধান্ত পাস করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যার ফলাফল ভালো হবে না।
২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে কোনো টালবাহানা বরদাস্ত করা হবে না। সংসদের দাবির মুখে আগামী ৫ তারিখ এটি খুলে দেওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে, অন্যথায় ছাড় দেওয়া হবে না।"
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের ৩১ দফার প্রথম দফায় সংস্কারের কথা বললেও, এখন ক্ষমতায় গিয়ে মেকানিজমের মাধ্যমে তা ভুলে গেছে এবং মিথ্যা বলছে।
নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি) বলেন, "সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখে মধু থাকলেও অন্তরে ছলনা। বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য লড়াই করেছিল। তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেনি, বরং ছাত্রদল ও যুবদলের চাঁদাবাজি নিশ্চিত করেছে। ২৪-এর যোদ্ধাদের এখন সংস্কার ও বিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (চেয়ারম্যান, এলডিপি) বলেন, "আমরা যারা বিরোধীদলে আছি, আমরা সরকারের শত্রু নই, মিত্র। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। এখন দেশের স্বার্থে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার জন্য দ্রুত কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।"
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
Comments