অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও:গ্রেপ্তার ২
চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের টাকা এবং হিসাব মেলাতে গিয়ে এই বিপুল অংকের অর্থের 'ঘাটতি' ধরা পড়েছে।
এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না হওয়া মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে (৪২) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল দেখা দেয়। পরে রেকর্ডপত্র যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি নিশ্চিত করা হয়। ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র অফিসার মো. কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।,ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কামরুল হোসেন দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের সহায়তায় ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন।
অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি (নম্বর ২২/৪৩৮) দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন। তার দাবি:জাফরুল্লাহ তানভীর ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা গ্রাহক নন; তিনি একজন গরুর খামারি। ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই ফোন করে তানভীরকে ব্যাংকে ডেকে নিয়েছিলেন। ব্যাংকের ভল্টে ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে এত বড় অংকের ঘাটতি তৈরি হলেও তা দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে কেন ধরা পড়ল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
Comments