সাভারে নব্য জেএমবির তৎপরতা: যোগাযোগে ‘পিটি’, লেনদেনে ‘ইলিমেন্ট’, ব্যাগে বোমা
সাভারে একের পর এক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একটি সক্রিয় চক্রের তৎপরতার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার এক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন ও চলাফেরার কৌশল সম্পর্কে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রের সদস্যরা প্রচলিত যোগাযোগমাধ্যমের পরিবর্তে 'প্রটেকটেড টেক্সট' বা 'পিটি' নামের একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করত। আর্থিক লেনদেনে তারা 'ইলিমেন্ট' নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করত বলে জানা গেছে।
সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা সাধারণত পিঠে ব্যাগ নিয়ে চলাফেরা করতেন। এসব ব্যাগে বোমা, অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি রাখা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়লে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এসব অস্ত্র সঙ্গে রাখা হতো বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপবোমা বা আইইডি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরদিন সাভারের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের মাঠ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধার করে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার করা বোমাগুলোর কয়েকটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিস্ফোরক ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপার-অক্সাইড (টিএটিপি) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পরে মামলাটি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে (এটিইউ) হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারীরা বলছেন, সাভারের পাশাপাশি মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া বোমার উপকরণের সঙ্গেও এই চক্রের কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত বছরের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণসহ সাম্প্রতিক প্রায় ১০টি বোমা ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত ঘটনায় নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা হলেন—মামুন ওরফে 'বোমারু' মামুন, শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফ, রাকিব ও বাপ্পী।
এর মধ্যে শেখ আল আমিন ও মোহাম্মদ আরিফ গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Comments