হাম ও উপসর্গে দেশে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৬ জনের মধ্যে হামের তীব্র উপসর্গ ছিল। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন আক্রান্ত: আরও ১,২৭৬ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। হাম নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপসর্গে বরিশালে ২ জন, ঢাকায় ২ জন, রাজশাহীতে ১ জন এবং সিলেটে ১ জন মারা গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে সরকারি তথ্যে:
হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ২২৬ জনের। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে ৪৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৩৪,৬৬২ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪,৮৫৬ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ২৩,৩৪৮ জন শিশুকে। বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯,৯৯১ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বড় একটি অংশ এখনো হাম ও রুবেলা টিকার আওতার বাইরে থাকায় এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে স্থবিরতার কারণে এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশেষ করে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতিমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় ১.২ মিলিয়নের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কারিগরি ও ঔষধ সরবরাহ দিয়ে সহযোগিতা করছে।
Comments