খালেদা জিয়াকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও তারেক-কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণার দাবি
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ঐতিহাসিক ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এই দাবি উত্থাপন করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ ৯ মাস দুই সন্তানসহ বন্দি থেকেও বেগম খালেদা জিয়া যে অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন, তা ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন: "আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশমাতা খালেদা জিয়া ১৯৭১ সালে তাঁর দুই সন্তানসহ বন্দি ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সেই অবর্ণনীয় কষ্টের দিনগুলো মায়ের সঙ্গে বন্দিশালায় কাটিয়েছেন। এটি কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়, বরং ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য।"
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন: ১. বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান। ২. ৯ মাস বন্দি জীবন কাটানোয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে 'শিশু মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে স্বীকৃতি। ৩. মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকেও মরণোত্তর 'শিশু মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান।
মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, শৈশবে যুদ্ধের ময়দানে বন্দি থাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।
মুজিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশপ্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ আজ রাজপথে ঐক্যবদ্ধ। তিনি বিশ্বাস করেন, এই পরিবারটির ঐতিহাসিক অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
Comments