বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৮৫০ কোটি টাকায় পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর পরীক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা আরও জোরদার করতে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ তলা ভবন নির্মাণ এবং সেখানে ৬৩টি নতুন পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) 'বিশ্ব মান দিবস' উপলক্ষে বিএসটিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিএসটিআইয়ের সেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে এর কার্যক্রমের পরিধি ও জনবল দুটোই বৃদ্ধি করা হবে। এ লক্ষ্যে নতুন করে দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোলজি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরও একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আমরা বিএসটিআইকে এমন একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, যাতে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশনের পরও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠানটির মান ও স্বীকৃতি বজায় থাকে।"
পণ্যের মান নিশ্চিত করা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয় নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি সরাসরি জননিরাপত্তা ও ভোক্তার আস্থার সঙ্গে জড়িত। মানুষ যে খাদ্যপণ্য গ্রহণ করে, যে জ্বালানি কেনে কিংবা যেসব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করে—সেগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ও এলপিজির সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
অন্যান্য অতিথিদের বক্তব্য
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, কেবল উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার শিল্পে উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক নিরাপদ খাদ্য, মানসম্মত পণ্য ও ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও জোরদার করার কথা জানান। এ সময় তিনি নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের উৎস শনাক্ত এবং বাজার মনিটরিং কঠোর করতে বিএসটিআইয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত 'এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট' গঠনের প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে উৎপাদকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে সৌর প্যানেলসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মান ও জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশি হালাল পণ্য ও সেবার সনদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার তাগিদ দেন।
Comments