সাজেকে অবরোধ স্থগিত, তবে পর্যটকদের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে বর্তমানে অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছে স্থানীয় সংগঠনগুলো।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেক বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়।
পর্যটকদের জন্য নির্দেশনা:
অনিবার্য কারণবশত গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকবে। বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে দেওয়াসহ দুই দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত 'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন'-এর ডাকে রোববার ভোর থেকে সাজেক-দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
অবরোধের কারণে গঙ্গারাম ও উজোবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন বিক্ষোভকারীরা। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে সাজেকে অবস্থানরত প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।
পরবর্তীতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরোধকারীদের দুই দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে আড়াই ঘণ্টা পর তারা ব্যারিকেড তুলে নেন এবং অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের দাবিগুলো হলো: ১. বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক এলাকা থেকে অপসারণ করা। ২. স্থানীয় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি বন্ধ করা এবং পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য বাবুধন চাকমা জানান, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে পুনরায় সড়ক অবরোধ শুরু করা হবে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধকারীদের আশ্বস্ত করার পর তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং আটকে থাকা পর্যটকরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন।
Comments