গাজায় দুই দশক পর ভোটের উৎসব: ধ্বংসস্তূপেই চলছে ব্যালট লড়াই
ইসরায়েলের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেই ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার কিছু অংশে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের বাসিন্দারা ২০০৭ সালের পর এই প্রথম নিজেদের স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন।
২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে সেখানে নির্বাচন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর এই নির্বাচনকে গাজাবাসীর জন্য একটি গণতান্ত্রিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহ শহরকে এই নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তারা পুরো গাজার ওপর তাদের প্রশাসনিক দাবির বৈধতা আরও জোরালো করতে চায়।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, পশ্চিম তীরে প্রায় ১৫ লাখ এবং গাজার দেইর আল-বালাহ'তে ৭০ হাজার নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৫৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মৌলিক চাহিদা মেটাতে সংগ্রামরত গাজাবাসীরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে হামাস নিজেই গাজায় সিটি কাউন্সিল সদস্য নিয়োগ দিয়ে আসছিল। চলমান এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া বা ফলাফল হামাস শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
যুদ্ধের বিভীষিকা আর লাশের পাহাড়ের মাঝে এই নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে ইসরায়েলি হামলা এবং হামাস-ফাতাহ দ্বন্দ্বের ছায়া এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎকে কতটা মসৃণ হতে দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
Comments