বিষ বিক্রেতার ছবি পোস্ট করে প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একজন বিষ বিক্রেতার ছবি প্রকাশ করে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, 'বিষ বিক্রি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত সবাইকে সতর্ক করছি। সুন্দরবনে এ অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।'
বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে মোংলা থেকে সুন্দরবনে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বিষের মূল বিক্রেতা হিসেবে অভিযুক্ত মো. সেলিম মিয়াকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে দাকোপ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ২ নভেম্বর দাকোপে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার সময় বনরক্ষীদের ওপর দা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে সোহেল শেখ ও লাইজু বেগমকে শনিবার জয়মনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেলিম মিয়ার সন্ধান পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর পোস্টে মন্তব্য করে বিষ বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সুন্দরবনে বিষ সরবরাহে সহযোগিতাকারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
মো. ইমরান নামে একজন মন্তব্যে লিখেছেন, গলদা চিংড়ির ঘেরে রাক্ষুসে মাছ দমনের কথা বলে অনেকে এসব বিষ কিনে নিয়ে যান। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিষ বিক্রি বন্ধ করা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে বিক্রির ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম তারিক নামে আরেকজন লিখেছেন, সুন্দরবনে বিষ নিয়ে যাওয়ার কাজে যারা সহযোগিতা করেন, তাদেরও গ্রেপ্তার করা উচিত।
অন্য মন্তব্যকারীরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ শাস্তি না হলে গ্রেপ্তারের পর মুক্তি পেয়ে অপরাধীরা আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ফলে শুধু মাছ নয়, অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষাক্ত পানিতে মাছের ডিম ও পোনা, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। পানির প্রবাহের সঙ্গে বিষ ছড়িয়ে পড়লে খাদ্যশৃঙ্খলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিষের উৎস ও বিক্রয়ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments