নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট
ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। শনিবার (৭ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা আইজেনকোটের বিরোধী জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ সভায় আইজেনকোটের প্রতি তুলনামূলক বেশি সংসদ সদস্যের সমর্থন উঠে আসে। এর ভিত্তিতেই তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আইজেনকোট বলেন, এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। এই দায়িত্বের যোগ্য হয়ে উঠতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক জোট। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শ সভায় ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটের পক্ষে সরকার গঠনের সুপারিশ করেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান ৪৬ জন। সাত সদস্যের আল্ট্রা-অর্থোডক্স দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো প্রার্থীর পক্ষেই সুপারিশ করেনি।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেও আইজেনকোটের সামনে সরকার গঠনের পথ বেশ কঠিন। কারণ, নির্বাচনের আগে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিল। অথচ আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন।
এ অবস্থায় সরকার গঠনে কয়েকটি সম্ভাব্য সমীকরণ সামনে এসেছে। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন, আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর একাংশকে পাশে টানা কিংবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য সরকার গঠন—সব পথই আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এর আগে ২০২০ সালে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর নেতানিয়াহু ও তার মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টজ ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, দুজনের পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।
এবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। তার মতে, একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়েও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাবে ইসরায়েলকে একাধিকবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থতা দেখা দিলে দেশটিতে আবারও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Comments