গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকের আহবান
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাংলাদেশী নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকের আহবান জানিয়েছে বিজিবি। তবে এখনও পর্যন্ত বিএসএফ'র পক্ষ থেকে কোন সাড়া মেলেনি বলে বিজিবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান জানান, একজন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ টুঙ্গী ক্যাম্পের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে বিজিবির মেদিনীপুর ক্যাম্পের টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাল্টা ফায়ার করে।
ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিএসএফ এখনও কোন প্রতিউত্তর দেয়নি।
বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গিয়েছেন বিএসএফের সদস্যরা। এ ঘটনার পর পাল্টা গুলি ছুড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৮-বিজিবি)। পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের সীমান্তে মেইন পিলারে ৬১/১-এস-এর নিকট এ ঘটনা ঘটে।
আহত, মনিরুল ইসলাম একই গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে। তাকে ভারতের কৃষ্ণনগর জেলার শান্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে মনিরুল ইসলামসহ সাতজন ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টুঙ্গী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও রাবার ছোড়ে। এতে মনিরুলের পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেট এবং পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্য চোরাকারবারি পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুলকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
মনিরুলের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন, কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Comments