শীতের শুরুতেই বাড়ছে শীতকালীন রোগ
সারাদেশে বাড়তে শুরু করেছে শীতের আমেজ। আর আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে শীতকালীন নানা রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন সমস্যায়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের পাশাপাশি ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শীতের শুরুতেই হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীদের আনাগোনা। কেউ এসেছেন তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে, কেউবা দীর্ঘদিনের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজধানীর ধুলাবালি ও দূষিত বাতাস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলছেন, 'শীত পড়ার পর থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। ধুলাবালির মধ্যে গেলে আরও বেশি কষ্ট হয়। তাই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।'
রাজধানী ঢাকার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ আয়শা আক্তার ঢাকা জার্নালকে জানান, 'শীতের সময় শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগীর সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। যাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তাদের ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।'
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ফাতেহ্ আকরাম দোলন ঢাকা জার্নালকে জানান, 'শীতের শুরু থেকেই সতর্ক থাকুন। ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখুন। শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত যত্ন নিতে হবে। তবে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বাড়লে কিংবা শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ইনহেলার ব্যবহারে পরিবর্তন আনা উচিত নয়।'
শীতের মৌসুমে সামান্য অসতর্কতাও শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে। তাই নিজের পাশাপাশি পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের প্রতিও বাড়তি যত্ন নিতে হবে। ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে শীতকালীন রোগের ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।
Comments