ঢাকা-গাজীপুর সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সরকারের
ঢাকা-গাজীপুর করিডরে যান চলাচল সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যমান বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করে সড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা জটিলতার পর বিআরটি সেবা চালুর পরিকল্পনা বাদ দিয়ে সড়কটিকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
করিডরের উভয় পাশে সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য তিনটি করে লেন নির্মাণ করা হবে। এ জন্য বিআরটি স্টেশন, লেন বিভাজক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো অপসারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লেনের দুটি উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বিলুপ্ত করে এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে এবং পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের পটভূমি ও বিআরটি বাতিলের কারণ
দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয় বৃদ্ধি: ২০১২ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বেড়ে তা প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একনেক সভা প্রকল্পের ব্যয় ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং নকশা ও সম্ভাব্যতা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
বিকল্প চিন্তা: প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চারটি বিকল্পের মধ্যে শেষ পর্যন্ত একে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দলও অতিরিক্ত বিনিয়োগ না করে বিদ্যমান অবকাঠামো সাধারণ যানবাহন চলাচলে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এই সিদ্ধান্তকে টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়তে পারে এবং গাজীপুর ও উত্তরার লাখ লাখ যাত্রীর গণপরিবহনের মূল চাহিদা ব্যাহত হতে পারে।
দীর্ঘ দুর্ভোগের পর এই করিডরের সঠিক ব্যবহার, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Comments