জুতা ও লাগেজের সরঞ্জাম তৈরিতে ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগ চীনা কোম্পানির
বাংলাদেশে দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের জন্য ৭০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৭.০১ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে চীনের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি 'কেপিএসটি'। নতুন এই কারখানায় জুতার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ব্যাগ ও লাগেজের উপকরণ, কাগজজাত পণ্য এবং মুদ্রিত সামগ্রী (প্রিন্টেড মেটেরিয়ালস) উৎপাদিত হবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ (ইজেড-১) 'কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড' নামে এই কারখানাটি স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় বেপজার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি ইজারা চুক্তি সই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৭ হাজার ২০০ বর্গমিটার জমিতে এই কারখানাটি গড়ে তোলা হবে। উৎপাদিত এসব সরঞ্জাম দেশের অভ্যন্তরীণ রপ্তানিমুখী জুতার কারখানার পাশাপাশি ভারত ও কম্বোডিয়ার জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সরবরাহ করা হবে।
নতুন এই কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ জোড়া জুতার সরঞ্জাম, ২৪ হাজার ঘনমিটার ফোম, ২ লাখ কাটিং বোর্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার কাটিং ডাই ও মোল্ড
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার পক্ষে বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের সদস্য মো. তানভীর হোসেন এবং কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়ালের পরিচালক ঝাং ইউগুও চুক্তিতে সই করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কেপিএসটির পরিচালক ঝাং ইউগুও জানান, তাদের প্রথম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় তারা একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় কারখানা চালুর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বেপজার কার্যকারিতা বিবেচনা করেই তারা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এই দেশকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নতুন এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এটি বেপজার প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত আস্থারই একটি বড় প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, একই মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'কেপিএসটি সুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড' ইতিপূর্বে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ থেকে প্রথম রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছিল, যার উৎপাদন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকেই সফলভাবে চলছে।
Comments