মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা: সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই প্রতিমন্ত্রীর কাছে
সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কথা বারবার বলা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে প্রতিদিন শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষ বোয়েসেল অফিসে ভিড় করলেও কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর কারও জানা নেই।
বোয়েসেলের একাধিক কর্মী জানান, নতুন কোনো নির্দেশনা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। অফিসে নোটিশ টাঙানো রয়েছে যে হয়তো চলতি মাসের শেষ নাগাদ নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে মালয়েশিয়ায় কবে নাগাদ 'কলিং ভিসা' বা কর্মী যাওয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
এ বিষয়ে সঠিক তথ্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, মালয়েশিয়া ইস্যুটিতে শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষ বা নীতিনির্ধারকরা তাকে একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে কোনো তথ্য জানাননি।
অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক স্পষ্টতই জানান যে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি জানান, বিষয়টি মন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা ভালো বলতে পারবেন, কারণ তারাই শুরু থেকে পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে দেশটির উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যে দুই দফা বৈঠক হয়েছে, তাতে প্রবাসী সচিব কিংবা প্রতিমন্ত্রীর কেউই যুক্ত ছিলেন না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এই ধরনের সমন্বয়হীনতা ও লুকোচুরি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পারস্পরিক সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, প্রথমে সরকারি পর্যায় থেকে আগস্টের শেষ নাগাদ মালয়েশিয়ার অভিবাসন কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সেই সময়সীমা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নেওয়া হয়।
Comments