অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানাল মা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার করা প্রধান আসামি তুহিন হত্যাকাণ্ডের দিন কখন কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন তুহিনের মা।
তুহিনের মা জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে তুহিন কয়েক দফায় বাড়িতে আসা-যাওয়া করে।
অভিযান ও পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, সাদা পোশাকের একদল পুলিশ সদস্য তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যান। এ সময় তুহিনের শয়নকক্ষের বিছানার নিচে লুকানো একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে অপ্রতিমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
ছেলের গতিবিধি সম্পর্কে তুহিনের মা জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে একবার ঘরে ফিরে এলেও সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর সে আবারও বাইরে চলে যায়। এরপর রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ সক্রিয় অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, যার পরই ডিভাইসটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পায় পুলিশ। পরবর্তীতে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।
Comments