ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ স্বর্ণালংকার চুরি
ফরিদপুর শহরের সদর হাসপাতালের পাশে ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালিবাড়ী ২ নম্বর উত্তর মন্দিরে এক চুরি হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের একাধিক গেটের তালা কেটে কষ্টিপাথরের মূর্তি, সোনা-রূপার অলংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় ও মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরে তালা লাগিয়ে বাসায় চলে যান সেবায়েত দেব প্রসাদ চক্রবর্তী। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে গৃহবধূ শিখা চক্রবর্তী মন্দিরের গেটের তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামী, মন্দিরের দারোয়ান ও পূজারিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
মন্দিরে প্রবেশ করে দেখা যায়, কষ্টিপাথরের তৈরি কালীমূর্তি, পিতলের গণেশ, নারায়ণ ও লক্ষ্মী মূর্তি এবং রুপার তৈরি মনসা, বিষ্ণু, গোপাল ও শিবলিঙ্গে পেঁচানো সাপের মূর্তি গায়েব রয়েছে। এছাড়া মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২০ ভরি রুপার অলংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তির খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূর্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং সিআইডির একটি অপরাধ তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আলামত সংগ্রহসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, মন্দিরে চুরির বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি চুরি হওয়া অলংকার ও মূর্তি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে।
Comments