গণপরিবহনে যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে ক্যাব চট্টগ্রামের মানববন্ধন
চট্টগ্রামে গণপরিবহনে যাত্রীসেবার অনিয়ম, অসংগতি, অতিরিক্ত ও দ্বৈত ভাড়া আদায়, হয়রানি এবং নানা ধরনের ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর বদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
ক্যাব চট্টগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা, কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসব অনিয়ম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, সীমিত আয়ের মানুষসহ প্রতিদিন গণপরিবহনে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। গণপরিবহনে যাত্রীসেবার নামে চলমান হয়রানি, অনিয়ম ও নৈরাজ্যের অবসান এবং সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে এ প্রতিবাদী অবস্থান ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, "গণপরিবহনের অরাজকতা, নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "অনেক জায়গায় গণপরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা ও কথা-কাটাকাটি হচ্ছে, যা কখনো কখনো ঝগড়ায়ও রূপ নিচ্ছে। কিন্তু এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিআরটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।"
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, "ব্যবসা-বাণিজ্য, বাসাবাড়ি, অফিস ও কর্মস্থলে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী এবং সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় ক্যাব চট্টগ্রাম ও যুব ক্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মানববন্ধনে সর্বস্তরের নাগরিককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।"
ক্যাব চট্টগ্রামের মুখপাত্র ও বিভাগীয় কর্মসূচি সংগঠক (ডিপিও) রাসেল উদ্দীন জানান, কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে তিনি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। জনস্বার্থ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বাংলাদেশের একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা। সংগঠনটি বাজার মনিটরিং, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও মান পর্যবেক্ষণ, ভোক্তা শিক্ষা, ভোক্তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা এবং নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে ক্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজারে ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ, কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং সমাজের সব স্তরে ভোক্তার অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করাই সংগঠনটির অন্যতম প্রধান ল
Comments