মোংলায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন: জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে ৩৫ হাজার চারা রোপণ
বাগেরহাটের মোংলায় নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মোংলার চিলা ইউনিয়নের পশুর নদের তীরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
ব্র্যাকের 'রেইন ফর লাইফ' প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ সংগঠন 'ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)' এর কেন্দ্রীয় নেতা মো. নূর আলম শেখ।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তা তৃপ্তি সরদার, সাহানা বেগম, স্থানীয় বিএনপি নেতা সুরাজ মণ্ডল ও ইয়ুথ লিডার ইমনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মোকাবিলায় প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান হিসেবে ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। ড্যানিশ মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় চিলা ইউনিয়নের তেলিখালী ও কেয়াবুনিয়া গ্রামের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে বাইন, কাঁকড়া, কেওড়া ও পশুরসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ৩৫ হাজার চারা রোপণ ও বীজ বপন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ম্যানগ্রোভ বন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে এগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ'।
পরিবেশকর্মী মো. নূর আলম শেখ বলেন, 'ম্যানগ্রোভ বন ঘন হলে তা নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মাছ, কাঁকড়া ও পাখিসহ উপকূলীয় প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে'।
ব্র্যাকের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রকৃতিভিত্তিক এই সমাধানের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এই বনায়ন কর্মসূচি উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
Comments