খাগড়াছড়িতে পৃথক সংঘাত: ইউপিডিএফ-এর ২ সদস্য নিহত
পাহাড়ের দুই পৃথক স্থানে সংঘটিত গোলাগুলি ও হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) খাগড়াছড়ির রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় এই ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গোলাগুলিতে এবং অন্যজন প্রতিপক্ষ গ্রুপের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ, স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে রামগড় উপজেলার দুর্গম প্রেমতলা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে ইউপিডিএফ সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফ সদস্য ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। নিহত ববিন রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া ও লাশ হস্তান্তরের কাজ চিকিৎসাধীন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র অংগ্য মারমা ববিনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সেখানে তাঁদের আরেক কর্মী মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯) নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের ধারণা, জীবনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে দুপুরের দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ার মুড়োপাড়া এলাকায় সুজন চাকমা (৪৮) নামের আরেক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সুজন চাকমা বাবুছড়া মুড়োপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা ৫ জন মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইউপিডিএফ। সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অস্ত্রধারীরা তাঁদের কর্মীর ওপর এই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জেএসএস-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Comments