বাংলাদেশে পৌঁছালেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেশে এসে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে সাধারণত অভিজ্ঞ ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া দেওয়া হয়। তবে ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে সেই প্রথার ব্যতিক্রম ঘটাল নয়াদিল্লি।
গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হলেও দীনেশ ত্রিবেদী চমৎকার বাংলা বলতে পারেন। ভারতের দলীয় সূত্রগুলো বলছে— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতির ওপর গভীর দখল থাকার কারণেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং অভিজ্ঞ এক ব্যক্তিত্ব। আশির দশকে কংগ্রেসের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরবর্তীতে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনতা দল ছেড়ে তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। একটা সময় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত দূত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। ২০১৬ সালের পর মমতার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করলে, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি তৃণমূল ছাড়েন এবং একই বছরের ৬ মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন অভিজ্ঞ ও বাংলাভাষী প্রবীণ রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর ভারতের এই সিদ্ধান্তকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Comments