২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ
চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। হামলায় এক নির্মাণশ্রমিক কিরিচের আঘাতে আহত হয়েছেন। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক মারধরের শিকার হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দীঘিরপাড়-ভাটিয়ারী লিংক রোডসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালবেলা মুখোশ ও মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল একটি টেম্পোযোগে ঘটনাস্থলে আসে। তারা নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করে এবং ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামে এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, তিনি বড় দিঘিরপাড় এলাকায় চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা পরিচালনা করেন। সম্প্রতি সেখানে একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। গত এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, 'এক মাস ধরে বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এর আগে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার পর কিছুদিন তারা নীরব ছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে আবারও চাঁদার জন্য ফোন দেওয়া শুরু করে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলাম। আজকের ঘটনায় থানায় মামলা করব।'
তবে কারা এই চাঁদা দাবি করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম জানাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু জসিম উদ্দিনের ভবন নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন অন্তত ৮ থেকে ১০টি ভবনের মালিকের কাছ থেকেও একইভাবে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। তাদের দাবি, এলাকায় এ ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি আগে কখনো দেখা যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযানে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ইমন পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ওই হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন ভবনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলার ধারাবাহিক ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Comments