ধূ্মপায়ীদের জন্য দু:সংবাদ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তামাকজাত পণ্যের ওপর মূল্য ও কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হবে। মধ্যম স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৯২ টাকায় উন্নীত হবে।
সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে উচ্চ ও অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর জন্যও মূল্যসীমা ও সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ১০ শলাকার হিটেড টোব্যাকোর সর্বোচ্চ মূল্য ২১০ টাকা এবং এর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তামাক খাতে রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্য রোধে বেশ কিছু প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপও গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সিগারেট উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য 'ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস' পদ্ধতি চালু করা হবে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণের জন্য কাউন্টিং ডিভাইস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া সিগারেট স্ট্যাম্পে কিউআর বা এআর কোড সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে পণ্যের বৈধতা সহজে যাচাই করা যায়।
অবৈধ সিগারেট ও তামাকপণ্যের তথ্য সংগ্রহে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকেরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অবৈধ তামাকপণ্যের তথ্য জানাতে পারবেন। নির্ভরযোগ্য তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
এদিকে সিগারেট ও বিড়ি তৈরির কাগজ আমদানির ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই এসব কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে। আমদানিকৃত পণ্য কোনো ট্রেডার বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত হবে, অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
Comments