এফএও সদর দপ্তরের জাদুঘরে স্থান পেল বাংলাদেশের জামদানি, পাঞ্জাবি ও পাজামা
ঢাকা বিশ্বমঞ্চে আবারও উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ বস্ত্র ঐতিহ্যের নাম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর ইতালির রোমস্থিত সদর দপ্তরের আন্তর্জাতিক জাদুঘরে (FAO MuNe) স্থায়ী ও পর্যায়ক্রমিক প্রদর্শনীর জন্য স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি, পাঞ্জাবি ও পাজামা।
রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দূরদর্শী ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বিশেষ উদ্যোগের ফলেই আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকসমূহ প্রদর্শনীর এই গৌরবময় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত পণ্য 'জামদানি শাড়ি'টি এফএও জাদুঘরের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ "Traditions and Innovations" (ঐতিহ্য ও উদ্ভাবন) কক্ষে স্থায়ীভাবে প্রদর্শিত হবে। অন্যদিকে, বাঙালি পুরুষের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক 'পাঞ্জাবি ও পাজামা' এই জাদুঘরে পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব দরবারে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যের এই অনন্য নিদর্শনগুলো ফুটিয়ে তুলতে পুতুলের (ম্যানিকুইন) মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে এগুলো সজ্জিত করা হয়েছে।
এই গৌরবময় অর্জন সম্পর্কে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, '১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা'র জাদুঘর উদ্বোধনের পর থেকেই বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম উক্ত জাদুঘরে বাংলাদেশের কারুশিল্প ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে উপস্থাপনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমাদের দূতাবাসের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানী শাড়ি, পাঞ্জাবি ও পাজামা প্রদর্শনের বিষয়টি অবশেষে এফএও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সাদরে গৃহীত হয়েছে'।
তিনি আরও যোগ করেন, 'বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো এফএও জাদুঘরের ন্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের মাধ্যমে এখানে আগত বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, গবেষক এবং ইতালিয়ানদের নিকট বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। এটি বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি'।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিং হিসেবে কাজ করবে। এফএও সদর দপ্তরে প্রতিনিয়ত বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াত থাকে। তাদের সামনে এই পোশাকগুলোর প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের হাজার বছরের পুরনো বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস যেমন উন্মোচিত হবে, তেমনি সুনিপুণভাবে উপস্থাপিত হবে বাংলার কৃষিনির্ভর জীবনধারা, গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং প্রান্তিক কারিগরদের অনন্য কারুশিল্প।
Comments