প্রথম ধাপে ৩০ উপজেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচি
দেশে কিছু এলাকায় হাম-রুবেলার (এমআর) প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জরুরিভিত্তিতে আগামী রোববার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। আগামীকাল রোববার সকাল নয়টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পৃথক পৃথক স্থানে এর উদ্বোধন করবেন।
শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিট্যাগ) এ জরুরি কর্মসূচির সুপারিশ করে। এটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের আওতায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। কোনো শিশুকে সুরক্ষার বাইরে না রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (হটস্পট) টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ২১ মে'র মধ্যে পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা জটিলতা কমাতে সহায়তা করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। সরকার আশ্বস্ত করেছে, ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
হটস্পট যেসব উপজেলা
দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা/পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে।
উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে পাবনা (পৌরসভা ও সদর), চাঁদপুর (সদর), কক্সবাজার (মহেশখালী), গাজীপুর সদর, নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর ও ত্রিশাল), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশালসহ (মেহেন্দিগঞ্জ) নানা এলাকায় সংক্রমণের হার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে।
নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।
Comments