জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ
বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অনন্য প্রতিভা, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট 'মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল' শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।
এ উপলক্ষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—সর্বত্রই বিদ্রোহী কবি নজরুলের সৃষ্টি ও চেতনা এক চিরন্তন মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। 'দুখু মিয়া' ডাকনামের এই কবি চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে শৈশব পার করেন। মাত্র ২৩ বছরের সংক্ষিপ্ত সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক রচনা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার অসামান্য লেখনি অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশে এনে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে 'জাতীয় কবি'র মর্যাদা দেওয়া হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করে।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দ্রোহ ও প্রেমের প্রতীক এই মহামানবের সৃষ্টি আজও বাঙালি জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সংগ্রামের পথে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
Comments