রংপুরে চারজন হত্যা: মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থই মূল খুনি, জানাল পুলিশ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসই মূল খুনি বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ। আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের পর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও পুলিশের ভাষ্য
গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) ভোরের দিকে অতিরিক্ত আটটি ইয়াবা সেবনের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্রাচীর টপকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান নেন। সকালে গণপতি চক্রবর্তী হাঁটার সময় তাদের দেখতে পেয়ে ধমক দিলে, মান-সম্মান বাঁচাতে তারা গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। শব্দ শুনে গণপতির স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও একইভাবে গামছা ও রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ঘরে ঢুকে গণপতির ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে দেখতে পেয়ে সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায়, তার গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়।
তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আপডেট
হত্যাকাণ্ডকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজাতে আসামিরা ঘরের ড্রয়ার ও জিনিসপত্র এলোমেলো করেন। এ সময় তারা ১৫ হাজার টাকা এবং কিছু স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সেই টাকা দিয়ে সিদ্ধার্থ তার বন্ধক রাখা মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন।
নিহত দুই নারীর ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষা করে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসেরও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্ট এবং ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার প্রাথমিক তদন্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেও, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়েই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
Comments