৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি
সব ধরনের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক চিত্র নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে সব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে বিবিএসের প্রাথমিক হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অর্থনীতির এই নতুন মাইলফলক ছোঁয়ার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে কৃষি ও সেবা খাত। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে শিল্প খাতে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশের অর্থনীতিকে টেনে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সেবা খাত। এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষি খাত ভালো ফল দেখিয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প খাতে কিছুটা মন্দা দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। মূলত বিশ্ববাজারে রপ্তানি কমে যাওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় শিল্প খাতে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সব মিলিয়ে শিল্প খাতের শ্লথগতির পরও কৃষি ও সেবা খাতের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিল।
Comments