৩৪ বছরের অচলাবস্থা ভেঙে ইসরায়েল ও লেবানন আজ আলোচনায় বসছে
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার একটি বিরল ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান: "দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কথা হতে যাচ্ছে। এটি একটি চমৎকার বিষয়! আমি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতাকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংঘাতের মূল কারণগুলো হলো: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ লেবাননের। গত ২ মার্চের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের পরিধি বাড়াতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিলেও, একইসাথে কূটনৈতিক পথও খোলা রেখেছেন। তার লক্ষ্য হলো: ১. হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। ২. প্রতিবেশীর সাথে একটি 'টেকসই শান্তি' প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে, লেবানন সরকার শুরু থেকেই এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নয় বলে দাবি করে আসছে। তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি প্রধান দাবি জানাচ্ছে: অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
Comments