কথা রাখলেন মন্ত্রী, ভাঙল ইনু মিয়ার ১৭ বছরের কঠিন প্রতিজ্ঞা
৬ হাজার ৩১৫টি দীর্ঘ দিন। এক অদম্য জেদ আর বুকভরা অভিমান নিয়ে ১৭টি বছর অন্ন ত্যাগ করেছিলেন কিশোরগঞ্জের ইনু মিয়া। অবশেষে তাঁর প্রিয় দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ায় ভাঙল সেই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা। গত মঙ্গলবার দুপুরে এক আবেগঘন পরিবেশে নিজের প্রিয় রাজনৈতিক নেতার হাত থেকে প্রথম লোকমা ভাত মুখে তুলে নিলেন এই প্রবীণ বিএনপি ভক্ত।
ঘটনাটি ২০০৮ সালের। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিলেন কুলিয়ারচরের জগৎচর পশ্চিমপাড়ার কৃষিশ্রমিক ইনু মিয়া। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের বদলে কপালে জুটেছিল প্রতিপক্ষের মারধর। সেই অপমান সইতে না পেরে বুক ফেটে কান্না এসেছিল তাঁর। সেদিনই তিনি কঠিন শপথ করেছিলেন—যতদিন না তাঁর পছন্দের দল ক্ষমতায় ফিরবে, ততদিন তিনি ভাত মুখে তুলবেন না।
দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি রুটি বা বিকল্প খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন, কিন্তু ভাতের থালার দিকে ফিরেও তাকাননি। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন, অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছেন, তবুও টলেনি তাঁর সেই রাজনৈতিক সততা আর নীরব প্রতিবাদ।
গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে এক সভায় ইনু মিয়ার এই ত্যাগের কথা জানতে পারেন তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি সেদিনই কথা দিয়েছিলেন, ইনু মিয়ার এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে তাঁকে ভাত খাওয়াবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ইনু মিয়ার আঙিনায় গাছের ছায়াঘেরা পরিবেশে আয়োজন করা হয় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের। ১৭ বছর পর যখন পাতে ভাত এল, তখন মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইনু মিয়া। তিনি শুধু এটুকুই বলতে পেরেছিলেন, "আমি তো শুধু ভোট দিতে গেছিলাম, হেরা আমারে মারল কেন?" তাঁর এই আর্তনাদে উপস্থিত শত শত মানুষের চোখ ভিজে ওঠে।
প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম নিজ হাতে ইনু মিয়াকে খাবার পরিবেশন করেন। তিনি বলেন, ইনু মিয়ার মতো তৃণমূলের নিঃস্বার্থ কর্মীরাই দলের আসল শক্তি। প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইনু মিয়াকে একটি পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া, বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা এবং জরুরি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।
রামদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি মজনু মিয়ার সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ১৭ বছর পর তৃপ্তির সাথে ভাত খেয়ে ইনু মিয়া যেন এক নতুন জীবনের স্বাদ পেলেন, যেখানে আর কোনো বাধা বা অপমানের ভয় নেই।
Comments