তীব্র গ্যাস সংকট: চট্টগ্রামে দুই সার কারখানা বন্ধ
দেশে বিরাজমান তীব্র গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতের অপরিহার্য উপাদান সার উৎপাদনে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গ্যাসের অভাবে দেশের বড় দুটি সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে কাঁচামাল সংকটে পড়ে এখন তৃতীয় আরেকটি কারখানাও বন্ধের মুখে। তবে দীর্ঘ ২৭ দিন পর নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং বহুজাতিক কোম্পানি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-এর উৎপাদন বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ। এই দুটি কারখানা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)।
ডিএপিএফসিএল-এর বর্তমান পরিস্থিতি: ডিএপি সার উৎপাদনের মূল কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহ আসত সিইউএফএল ও কাফকো থেকে। ওই দুটি কারখানা বন্ধ থাকায় ডিএপিএফসিএল-এ অ্যামোনিয়ার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সিইউএফএল বা কাফকো চালু না হলে অ্যামোনিয়া সংকটে ডিএপিএফসিএল-এর উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক ৬০০-৭০০ টন উৎপাদন হলেও জনবল সংকট এবং যন্ত্রপাতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে উৎপাদন ক্ষমতা এমনিতেই হ্রাস পেয়েছে।
চট্টগ্রামে হাহাকার থাকলেও নরসিংদীর পলাশে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘ ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার দুপুর থেকে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম জানান:
"গত ৪ মার্চ সরকারি নির্দেশনায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। ৩১ মার্চ পুনরায় গ্যাস পাওয়ার পর কারিগরি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে।"
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রামের কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা না গেলে আসন্ন কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ডিএপি সারের চাহিদা মেটাতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ বা গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
Comments