১,৫৮৮ কোটি টাকার সম্পদ, বেসরকারি নন-লাইফ বীমায় শীর্ষে গ্রীন ডেল্টা
মোট সম্পদের দিক থেকে দেশের বেসরকারি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সামগ্রিক তালিকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পরেই রয়েছে গ্রীন ডেল্টা।
নন-লাইফ বীমা খাতের ৪৫টি কোম্পানির সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ হাজার ৭৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ হাজার ৭২৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদের ৫৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
তালিকায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ৮ হাজার ১১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সম্পদ নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ ১,৫৮৮.৫২ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ ৬৯০.৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গ্রীন ডেল্টার মোট সম্পদের ৪৩.৪৬ শতাংশ বিনিয়োগে রয়েছে।
তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ৬৯০.৩২? টেবিল অনুযায়ী ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৪৯১.৩৬ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত ৩১.৫৪ শতাংশ।
অর্থাৎ মোট সম্পদের হিসাবে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স এর সঙ্গে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স এর ব্যবধান প্রায় ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
সম্পদের তালিকায় পরের অবস্থানগুলো
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, গ্রীন ডেল্টার পরে রয়েছে—
- ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স — ১,৫৫৭.৮০ কোটি টাকা
- পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স — ৬৭৯.৯২ কোটি টাকা
- প্রগতি ইন্স্যুরেন্স — ৬৪৮.৮৬ কোটি টাকা
- নিটোল ইন্স্যুরেন্স — ৩৯৩.৩৮ কোটি টাকা
- সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স — ৩৮৬.৩৮ কোটি টাকা
- রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স — ৩২৩.২৮ কোটি টাকা
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স — ৩০২.৫৩ কোটি টাকা
- রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স — ২৭৭.৩৮ কোটি টাকা
- ইস্টর্যান্ড ইন্স্যুরেন্স — ২৭৩.৬৩ কোটি টাকা
তালিকার নিচের দিকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কো অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম, ৭৫.২১ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পরিমাণ ২.২২ কোটি টাকা, যা মোট সম্পদের মাত্র ২.৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাতেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ৮০ শতাংশের বেশি হলেও কয়েকটি কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ১০ শতাংশের নিচে।
গ্রীন ডেল্টা এর অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
৪৫টি কোম্পানির মোট ২০,৭৯৯.৭৭ কোটি টাকা সম্পদের মধ্যে একাই গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স এর সম্পদ ১,৫৮৮.৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ পুরো নন-লাইফ বীমা খাতের এই তালিকাভুক্ত মোট সম্পদের প্রায় ৭.৬৪ শতাংশ গ্রীন ডেল্টা এর দখলে।
আর রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে বাদ দিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রীন ডেল্টা এর সম্পদের পরিমাণই সর্বোচ্চ। ফলে নন-লাইফ বীমা খাতে কোম্পানিটির ব্যবসার আকার ও আর্থিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।
তবে কোনো বীমা কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণে শুধু মোট সম্পদ বিবেচনা যথেষ্ট নয়। প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগের ধরন ও রিটার্ন, দাবি পরিশোধ, মুনাফা, দায়, সলভেন্সি এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটির মতো সূচকও গুরুত্বপূর্ণ।
Comments