রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষক পাবেন সরকারি প্রণোদনা
রবি মৌসুমে সাতটি ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বাড়াতে দেশের ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষে সহায়তা পাবেন কৃষকেরা। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় গত ২ নভেম্বর এ বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদের সই করা আদেশে অর্থ বরাদ্দ, কৃষক নির্বাচন, বীজ ও সার বিতরণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া চিনাবাদাম চাষে ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অড়হর চাষে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহ করা হবে। বরাদ্দের অর্থ জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি উপজেলা পর্যায়ে বণ্টন করবে। পরে উপজেলা কমিটি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের চিহ্নিত করে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কৃষক পরিবার সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য প্রণোদনা পাবে। একই পরিবারকে একাধিক ফসলের বিপরীতে সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
প্রতিজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য ফসলভেদে নির্ধারিত পরিমাণ বীজ পাবেন। এর মধ্যে সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি এবং অড়হরের দুই কেজি বীজ রয়েছে।
বীজের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য রাসায়নিক সারের পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা ও সয়াবিন চাষের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষকের একটি দলকে ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি এবং ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে চিনাবাদাম, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য ১০ জন কৃষকের একটি দলের বিপরীতে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি এবং ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১০ জন কৃষককে নিয়ে একটি দল বা পুল গঠন করতে হবে। পাশাপাশি অন্তত ১০ বিঘা জমিতে ব্লকভিত্তিক আবাদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকাকে কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কৃষকের স্বাক্ষর অথবা টিপসই নিতে হবে। তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কাউকে বীজ ও সার দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত উপকরণ গ্রহণের জন্য কৃষককে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। উপকরণ বিতরণ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ফসল কাটার কাজ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর) অনুসরণসহ প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব এবং অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার চালানের অনুলিপিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচিতে অগ্রিম উত্তোলন করা অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
এ ছাড়া বিতরণ করা বীজ ও সারের গুণগত মান নিশ্চিত করা, উপকরণ বিতরণ ও অর্থ ব্যয়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং একই কৃষক যাতে একাধিক পুনর্বাসন কর্মসূচির সুবিধা না পান, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
Comments