বিদ্যুৎ বিধিমালা সংশোধন করল সরকার, কোন সেবায় কত ফি?
বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অনুমোদন নবায়নের জন্য নতুন ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন তালিকায় উপকেন্দ্রের ক্ষমতা অনুযায়ী পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৫৯ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০-এর তফসিল-১ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার উপকেন্দ্র পরিদর্শন ও পরীক্ষা করতে ফি দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। এর অনুমোদন নবায়নের ফি ১০ হাজার টাকা। ২০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ফি ২৫ হাজার এবং নবায়ন ফি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের জন্য এ দুটি ফি যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা।
এক মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ক্ষমতার উপকেন্দ্র পরিদর্শনে ৬০ হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়নে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ফি এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা। ১০ এমভিএ উপকেন্দ্রের জন্য পরিদর্শন ফি এক লাখ ৪০ হাজার এবং নবায়ন ফি ৭০ হাজার টাকা।
ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিও বাড়বে। ২০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি দুই লাখ টাকা, নবায়ন ফি এক লাখ টাকা। ৫০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ দুটি ফি চার লাখ ও দুই লাখ টাকা। ১০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের জন্য পরিদর্শন ফি সাত লাখ এবং নবায়ন ফি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ৫০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ৩০ লাখ টাকা এবং অনুমোদন নবায়নে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সিস্টেমে লিংকেজ পরীক্ষার ফি দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ডায়াগ্রামসহ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বা সেফটি প্ল্যান অনুমোদনের জন্য ৫০ কিলোওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৫০ কিলোওয়াট বা তার বেশি ব্যবহারে ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ হাজার ভোল্ট পর্যন্ত সরঞ্জাম পরিদর্শন ও পরীক্ষায় ৫০ হাজার টাকা এবং নবায়নে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ৩৩ হাজার ভোল্ট বা তার বেশি ক্ষমতার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ফি যথাক্রমে ৭৫ হাজার ও ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
ট্রান্সফরমারের তেল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়নের ফি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনার্জি মিটার পরীক্ষায় সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা, থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং মেইন মিটার বা এইচটি মিটারের জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। বৈদ্যুতিক লিফটের আর্থিং পরীক্ষার ফি প্রতি ইলেকট্রোডে ৫০০ টাকা।
লিফট পরিদর্শন ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্যাসেঞ্জার, ক্যাপসুল ও বেড লিফটের ফি ছয় হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়নের ফি তিন হাজার টাকা। কার্গো, গুডস, কার, ফায়ার ফাইটিং ও সার্ভিস লিফটের পরিদর্শন ও পরীক্ষায় ১০ হাজার টাকা এবং নবায়নে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরির ফি তফসিলে উল্লেখ না থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন কর্মকর্তা আগের ও পরের সমজাতীয় ক্যাটাগরির ফি বিবেচনায় আনুপাতিক হারে পরিদর্শন ফি নির্ধারণ করবেন।
নির্ধারিত অর্থ কর-বহির্ভূত রাজস্ব হিসেবে ট্রেজারি চালান অথবা অনলাইন এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত কোডে জমা দিতে হবে। যে ভবন বা স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রহণ কিংবা ব্যবহার করা হয় বা হবে, সেই ভবন বা স্থানের দখলদারকে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা দেওয়ার পর চালানের মূল কপিসহ প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের ২০১৪ সালের ২১ মে জারি করা 'বৈদ্যুতিক স্থাপনা বা সরঞ্জামাদি পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিদ্যুৎ লাইসেন্স জারি আদেশ, ২০১৪' বাতিল করা হয়েছে।
Comments