১০ টাকায় দাঁতের চিকিৎসা, অপেক্ষা মাসের পর মাস
দাঁতের চিকিৎসা করাতে গেলেই অনেকের কপালে পড়ে বাড়তি খরচের বোঝা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পাওয়া হয়ে ওঠে কঠিন। এমন মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে মিরপুর ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল। এখানে মাত্র ১০ টাকায় মিলছে দাঁতের উন্নত চিকিৎসা। সেবা নিতে গ্রাম থেকেও ছুটে আসছেন অনেকে। তবে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, লোকবল ও যন্ত্রাংশের সংকটে দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার সময়।
দাঁতের ব্যথা নিয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট, কিন্তু চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। এমন অনেক মানুষের কাছে মাত্র ১০ টাকার চিকিৎসা যেন আশার আলো। কেউ এসেছেন দূর গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে, কেউবা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই ভিড় করছেন রোগীরা।
অনেক রোগীদের সাথে কথা বলেছে ঢাকা জার্নাল। তারা জানিয়েছে 'এখানে মাত্র ১০ টাকায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে পেরে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। বাইরে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক টাকা লাগে। কিন্তু এখানে ডেট পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত চিকিৎসা পেলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেক কমত।'
ঢাকা জার্নালকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, 'মাত্র ১০ টাকায় অসহায় ও সাধারণ মানুষকে দাঁতের উন্নত চিকিৎসা দিতে পেরে আমাদের ভালো লাগে। তবে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সবাইকে দ্রুত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো গেলে আরও বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।'
হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক ডা. কেএম আবদুল্লাহ আল হারুন ঢাকা জার্নালকে জানিয়েছেন, 'রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় জনবল ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা থাকায় সেবা দিতে সময় লাগছে। যাদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জন্য প্রয়োজন আরও কার্যকর ব্যবস্থা।
তিনি আরো যোগ করেন, 'রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তবে এখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি, সেই তুলনায় আমাদের লোকবল ও যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরও বেশি মানুষকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।'
মাত্র ১০ টাকায় দাঁতের চিকিৎসা-স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি। কিন্তু চিকিৎসা পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হলে সেই স্বস্তিই হয়ে ওঠে নতুন ভোগান্তি। তাই এই মানবিক উদ্যোগের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন চিকিৎসক, জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি। যেন অর্থের অভাবে কেউ দাঁতের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, আর চিকিৎসার আশায় কাউকে দীর্ঘদিন কষ্টও সহ্য করতে না হয়।
Comments