৫ আগস্ট চালু হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বহু প্রতীক্ষিত 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর'-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৫ আগস্ট। ঐতিহাসিক এই দিনটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকার সাবেক 'গণভবন' প্রাঙ্গণে নির্মিত এই জাদুঘরটির শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর পরই এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জাদুঘর চালুর দিনক্ষণ ঠিক হলেও এর স্থায়ী জনবল সংকটের কারণে পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানান, উদ্বোধনকে সামনে রেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। প্রদর্শনীর উপকরণ সংযোজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, শহীদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্লভ আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল-দস্তাবেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অডিও-ভিডিও সাক্ষ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই হবে এই জাদুঘরের প্রধান লক্ষ্য।
দর্শনার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ইতিহাস-অনুরাগীদের জন্য বিশেষ গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে জাদুঘরটি উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা বারবার পিছিয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণভবন পরিদর্শন করে দ্রুত এটি চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এটি উদ্বোধনের কথা জানালেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১২ মে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং সম্প্রতি সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই জাদুঘর চালুর বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।
জাদুঘর উদ্বোধনের দিন ঘনিয়ে এলেও এর স্থায়ী পরিচালনা কাঠামো নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। গত ২৯ জানুয়ারি জাদুঘরের ৯৬টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। তবে গত ৫ মাসেও এই নিয়োগ পরীক্ষার কোনো তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ভাইভার মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে নিয়োগের চেষ্টা করা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার মুখে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের মাত্র ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব (সংযুক্ত) পালন করছেন। কিন্তু বিশাল এই জুলাই জাদুঘর মাত্র ১৫ জন দিয়ে পরিচালনা করা অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, "আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নিয়োগে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। তবে ৫ আগস্টের আগেই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু জরুরি জনবল যুক্ত করা হবে।"
এদিকে গতকাল রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জাদুঘর চালু করা না হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ নিজেরাই গিয়ে মেইন গেট খুলে জাদুঘরে প্রবেশ করবে।"
Comments