সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে ভারতকে ‘পুশ-ইন’ বন্ধ করতে হবে: এবি পার্টি
বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) ভারতীয় তৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সীমান্তে এই ধরনের আগ্রাসী তৎপরতা চলতে থাকলে কোনোভাবেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।
বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের 'পুশ-ইন' নীতির বিরুদ্ধে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। 'সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি' শিরোনামের এই সংবাদ সম্মেলনে পুশ-ইন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বর্তমান সরকারেরও সমালোচনা করা হয়।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। নয়া দিল্লির দাবি, এরা অবৈধ বাংলাদেশি। তবে বিভিন্ন সূত্র ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ—মূলত ভারতীয় মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু) বলেন, "পুশ-ইনের মাধ্যমে ভারত সরকার কূটনৈতিক সৌজন্য, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী তার অভিবাসী নাগরিককে অন্য দেশের মানুষ বলে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রেখে, নির্যাতন করে ঠেলে পার্শ্ববর্তী দেশে ঢোকানোর মতো অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ পৃথিবীর কোথাও আছে বলে জানা নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, ভারত সরকার বলেছিল বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার এলে তারা 'সহযোগিতা করবে', কিন্তু তাদের সহযোগিতার এই নৃশংস নমুনা অতীতের মতোই দেখতে হচ্ছে। তিনি ভারতের কাঁটাতারের রাজনীতি, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের মতো কার্যক্রম বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ভারতের এই পুশ-ইন নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুশ-ইন বন্ধে এরই মধ্যে নয়া দিল্লিকে ডজনখানেক চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতের মাটিতে সত্যিই যদি কোনো অবৈধ বাংলাদেশি থেকে থাকে, তবে যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনি উপায়ে তাদের ফেরত নিতে রাজি ঢাকা। কিন্তু জোরপূর্বক সীমান্তে 'পুশ-ইন' কোনো বৈধ বা গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে সুস্থ ও টেকসই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ভারতকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।" বিগত পাঁচ দশকে সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'বাংলাদেশ বদলে গেছে। আওয়ামী আমলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আর চলতে পারে না। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন বাস্তবতায় স্বাধীন ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে।"
সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আধুনিকায়ন, সীমান্তবর্তী জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল হালিম ও সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ এবং মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।
Comments