বাংলাদেশে বার নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ ও হয়রানি’: প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিটিশ ল সোসাইটির চিঠি
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা, মনোনয়নপত্র জমা দানে প্রতিবন্ধকতা এবং শারীরিক হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের সলিসিটরদের শীর্ষ পেশাদার সংগঠন 'দ্য ল সোসাইটি'।
গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই উদ্বেগ জানান সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মার্ক ইভান্স।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত দেশের বিভিন্ন বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: বহু প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে 'ফ্যাসিস্টদের সহযোগী' তকমা দিয়ে আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। জেলা ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রার্থীদের ওপর নাম প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে এবং পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিয়েছে।
দ্য ল সোসাইটি তাদের পত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশে আইনজীবীদের ওপর ঘটে যাওয়া এসব কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের 'রোল অব লইয়ার্স' (Role of Lawyers) সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে ৪টি নীতির লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়:
- নীতি ১৬: আইনজীবীরা যেন কোনো প্রকার ভীতি প্রদর্শন, বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই পেশাগত ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
- নীতি ১৭: আইনজীবীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাষ্ট্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। অথচ এখানে পুলিশ নিজেই চাপ প্রয়োগ করছে।
- নীতি ১৮: কোনো আইনজীবীকে তার মক্কেলের পরিচয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিচার বা চিহ্নিত করা যাবে না।
- নীতি ২৩: অন্য নাগরিকদের মতো আইনজীবীদেরও মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা এবং পেশাদার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ল সোসাইটি: বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনগুলো এমনভাবে সম্পন্ন করা যেন কোনো বৈষম্য ছাড়াই সব আইনজীবী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। নির্বাচনের সময় ঘটা অনিয়ম, বাধা প্রদান ও শারীরিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা। কোনো প্রকার প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই আইনজীবীরা যেন তাদের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার পরিবেশ তৈরি করা।
উল্লেখ্য, 'দ্য ল সোসাইটি' ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের ২ লাখেরও বেশি সলিসিটরের প্রতিনিধিত্বকারী একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, যা বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনজীবীদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে থাকে।
Comments