রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩ বছর জ্বালানি দেবে রাশিয়া
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে। দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে এই প্রকল্পটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, আগামী তিন বছর কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে রাশিয়া। ফলে এই সময়ের মধ্যে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। প্রতি দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে তিন বছর পর থেকে বাংলাদেশকে নিজস্ব উদ্যোগে জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থই ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬০ বছর মেয়াদি এই কেন্দ্রটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে আরও দীর্ঘ সময় সেবা দিতে পারবে।
পারমাণবিক বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী: ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে ৩০ লাখ টন কয়লা লাগে, অথচ পারমাণবিক কেন্দ্রে লাগে মাত্র ২৭ টন ইউরেনিয়াম। মাত্র ৪.৫ গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি জোগাতে পারে। ১ কেজি পারমাণবিক জ্বালানি ১০০ টন কয়লা বা ৬০ টন তেলের সমান বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে রাশিয়ার অত্যাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে রয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বা বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।
Comments