রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু: বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নপূরণের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি ভরা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় নাম লেখালো বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আইএইএ-এর মানদণ্ড অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটম-এর কারিগরি সহায়তায় ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা বান্ডিল চুল্লির কেন্দ্রে স্থাপন করার কাজ শুরু হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে।
জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বিভিন্ন কারিগরি ধাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা: জ্বালানি লোডিং শেষে প্রায় ৩৪ দিন ধরে চলবে নিউক্লিয়ার ফিশন বা চেইন রি-অ্যাকশন পরীক্ষা। রি-অ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই শুরু হবে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একবার জ্বালানি লোড করলে প্রায় ১৮ মাস বা দেড় বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ু ৬০ বছর, যা রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানির তেজস্ক্রিয় অবশেষ বিশেষ চুক্তির আওতায় রাশিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ রাশিয়া ঋণ হিসেবে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ উপস্থিত ছিলেন। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বাংলাদেশকে এই অর্জনে অভিনন্দন জানান। রোসাটম প্রধান আশ্বস্ত করেছেন যে, এই কেন্দ্রটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
Comments