বরগুনা-বরিশাল মহাসড়কের ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে ‘মৃত্যুফাঁদ’
বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, সরু কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণহীন ভারী যান চলাচলের কারণে ক্রমেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠছে। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে ৫০টিরও বেশি বিপজ্জনক বাঁক থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
২০২৪ সালে সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলেও বাস্তবে উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত। মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ যাত্রীবাহী বাসসহ বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী যান চলাচল করছে। ফলে সড়ক ব্যবহারকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।কারণ, প্রতিটি বাঁকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় চালকদের
বাড়তি সতর্কতা নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল করায় সড়কের স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বরগুনা সদর, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য এটি একমাত্র সরাসরি যোগাযোগ পথ হওয়ায় বিকল্প না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে
হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা সেতুতে ওজনসীমা নির্ধারণ থাকায় ৩০ টনের বেশি বোঝাই ট্রাকগুলো বিকল্প হিসেবে পুরাকাটা-আমতলী ফেরিঘাট হয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছে। তবে ফেরি পারাপারের সময়ও তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি। অতিরিক্ত ভারী ট্রাক ফেরিতে ওঠানামার সময় প্রায়ই গ্যাংওয়েতে পানি উঠে যাচ্ছে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এদিকে এসব ভারী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল সড়কের ব্রিজ ও কালভার্টগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বরগুনায় ওজন মাপার কোনো স্কেল না থাকায় অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমরেশ কর্মকার বলেন, সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই বরগুনা উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। একটি নিরাপদ ও প্রশস্ত সড়ক এখন সময়ের দাবি। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় দ্রæত ওজন মাপার স্কেল স্থাপন
জরুরি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সমীক্ষা চলছে।
হিমাদ্রি শেখর কেশব, বরগুনা
Comments